নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার নদী, বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে আশঙ্কাজনক হারে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, রিল (রিং) জালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকারের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে মা মাছ, পোনা মাছ এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ব্যাপক হারে নিধনের শিকার হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে জেলার প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের এই সময়টি মা মাছের প্রজনন এবং পোনা মাছের বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ঠিক এই সময়েই এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ও ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। কারেন্ট জালের সূক্ষ্ম ফাঁসে বড় মাছের পাশাপাশি অসংখ্য পোনা মাছও ধরা পড়ছে। অন্যদিকে ইলেকট্রিক শকের কারণে শুধু মাছই নয়, জলাশয়ের অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জেলা মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাদের মতে, মাসে এক বা দুটি অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা সম্ভব নয়। অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার নদী ও বিলে নিষিদ্ধ জাল পেতে মাছ ধরা শুরু হয়। সম্প্রতি তিতাস নদীসহ জেলার বিভিন্ন জলাশয়ে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও রিং জাল জব্দ করা হলেও অবৈধ মাছ শিকার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সচেতন মহলের দাবি, মাসে অন্তত ১৫ দিন, সম্ভব হলে আরও বেশি সময়জুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে কারেন্ট জাল, রিল জাল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ জাল জব্দ, ইলেকট্রিক শক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের মতে, মা মাছ ও পোনা মাছ সংরক্ষণ করা গেলে আগামী দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদী, বিল ও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় দেশীয় মাছের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাবে, যা শুধু মৎস্যসম্পদের জন্য নয়, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদী ও বিল শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো হাজারো মানুষের জীবিকা, পুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উৎস। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সম্পদ সংরক্ষণে এখনই কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
