স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোড এলাকায় একটি চারতলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির পাশ থেকে মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (১৩) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিসুর রহমান নবীনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর সাতঘরহাটি গ্রামের আলকাছ মিয়া ও জাহানারা বেগমের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি পাওয়ার হাউস রোডের ওই ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। আনিসুর কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জমি নিয়ে বিরোধ, কয়েক মাস আগে চাচা খুন
পরিবারের সদস্যদের দাবি, গ্রামে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। কয়েক মাস আগে ওই বিরোধের জেরে আনিসুরের এক চাচা খুন হন। সেই হত্যা মামলায় আনিসুরের বাবা আলকাছ মিয়া আসামি হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা গ্রাম ছেড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এসে বসবাস শুরু করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আনিসুরের চাচাতো ভাইদের কেউ কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিঁড়ির পাশে পড়ে ছিল লাশ
শুক্রবার রাতে ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে আনিসুরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তদন্তে পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম. এম. রকীব উর রাজা জানান, লাশের প্রাথমিক অবস্থা দেখে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
