শেখ সাদী সুমন জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়াম মার্কেটের একাধিক দোকান বন্ধ ও সিলগালা করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ভাড়া ১২ গুণ বৃদ্ধি
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৭ সালে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে তারা নিয়মিত দোকান ভাড়া দিয়ে আসছেন। শুরুতে মাসিক ভাড়া ৩০০ টাকা থাকলেও পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে বেড়ে ৭০০ টাকা এবং সর্বশেষ ১,০০০ টাকা করা হয়। তবে গত ২৪ আগস্ট জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসন এক নোটিশে জুলাই ২০২৬ থেকে মাসিক ভাড়া ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১২,০০০ টাকা নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকাসহ মোট ৫ লাখ টাকা জামানত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইনি আইনি পদক্ষেপ ও
একলাফে ১২ গুণ ভাড়া বাড়ানোকে অমানবিক দাবি করে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং- ১৩৬৮৭/২০২৬) দায়ের করেন ব্যবসায়ীরা। শুনানি শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ওই নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের আদেশের কপি ও ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট পৌঁছানোর আগেই প্রশাসন গিয়ে দোকানগুলো সিলগালা করে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আবু সাঈদ জানান, “আমরা আদালতের কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো পাইনি। তবে শুনেছি ব্যবসায়ীরা মালিকানা দাবি করে রিট করেছেন এবং দোকান কেনার কথা বলছেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থা কারো কাছে দোকান বিক্রি করেনি। আদালতের অফিশিয়াল রায় বা নির্দেশ পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে দোকান সিলগালা করায় কোটি টাকার মালামাল ভেতরে আটকে থেকে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত আদালতের নির্দেশ মেনে সিলগালা করা দোকানগুলো খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
