আজ ২৮ এপ্রিল—সকাল হতেই যেন নেমে আসে রাতের অন্ধকার। ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ, শুরু হয় তীব্র বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো জেলা, স্থবির হয়ে যায় জনজীবন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা- আখাউড়া ও সদর উপজেলাসহ প্রায় সব উপজেলায় দেখা গেছে একই চিত্র। টানা বৃষ্টিতে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলে যেতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের দিনমজুরদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
আখাউড়া ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চৌহমুনী–কসবা সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
এদিকে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অনেকেই ভিজে কাপড়েই কেন্দ্রে পৌঁছায়, আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়ে।
সন্তানদের নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন অভিভাবকরা। যানবাহনের সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বজ্রপাতের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি, যা বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। কিছু স্থানে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে কসবা উপজেলায় ঝড়ের আঘাতে একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার ভেঙে পড়েছে, যা ঝড়ের তীব্রতার স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
