বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রতিনিধি: মো. আরজু হাসান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাবলিক লাইব্রেরির পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নামকরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ছাত্রসমাজ এবং প্রয়াত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরার অবদানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব হয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে ছাত্রসমাজ লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। এলাকার পাঠকমহল ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা তৎকালীন ইউএনও ফেরদৌস আরার কাছে ২৪/০৮/২০২৫ তারিখে লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সচেতন ব্যক্তি ও সংগঠনও স্মারকলিপি জমা দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে।
তৎকালীন ইউএনও ফেরদৌস আরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে লাইব্রেরির সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিয়মিত তদারকিতে লাইব্রেরির সংস্কারকাজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করে।
তবে কাজ চলমান অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে লাইব্রেরির কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ছাত্রসমাজ ও পাঠকমহল পুনরায় লাইব্রেরির কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে সরব হয়। তারা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শারমিন সুলতানা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানায়।
এরই ধারাবাহিকতায় লাইব্রেরির কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং বর্তমানে সেটি উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
তবে এরই মধ্যে লাইব্রেরির নামকরণকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লাইব্রেরিটির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার। কিন্তু এই নাম নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। ছাত্রসমাজ ও সচেতন মহলের দাবি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা নিঃস্বার্থভাবে লাইব্রেরিটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতামত গ্রহণ না করেই বিতর্কিত এ নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের দাবি, একটি জনসেবামূলক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের নাম এমন হওয়া উচিত, যা তার ইতিহাস, স্থানীয় পরিচয় এবং অবদানকে ধারণ করে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ লিখছেন, যে ছাত্রসমাজ, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং প্রয়াত ইউএনও ফেরদৌস আরা লাইব্রেরিটির পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিলেন, তাঁদের অবদানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, লাইব্রেরিটির নাম ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি রাখা হোক, যাতে প্রয়াত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকে। অন্যদিকে অনেকেই বিকল্প হিসেবে অন্তত বাঞ্ছারামপুর পাবলিক লাইব্রেরি নামটি রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে লিখছেন, যে মানুষগুলোর অবদানে একটি বন্ধ লাইব্রেরি নতুন জীবন পেল, তাদের মতামত উপেক্ষা করে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির নাম ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ রাখা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ইতিহাস ও জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব খর্ব করা হয়েছে।স
তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নামকরণকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত ও আলোচনা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।
