ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে পথচলা শুরু করে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন হাফেজ ইসহাক আল মামুন। কুরআন হিফজ থেকে উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানা গেছে।
শৈশব থেকেই দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নিয়ে কওমি মাদ্রাসায় পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন হাফেজ ইসহাক আল মামুন। পরবর্তীতে আলিয়া মাদ্রাসায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বীনি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করেছেন বলে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ‘কাউতলী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত হন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কুরআন শিক্ষা ও হিফজ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁকে সক্রিয় থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের বিভিন্ন বিষয় সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় হাফেজ ইসহাক আল মামুন। ২০১৬ সালে আলেম-ওলামাদের বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন। ওই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলন-সংক্রান্ত ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান বলে তাঁরা জানান।
বর্তমানে হাফেজ ইসহাক আল মামুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ওলামা দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসব সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করাকে গুরুত্ব দেন হাফেজ ইসহাক আল মামুন। প্রচারের চেয়ে দায়িত্ব পালন ও মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন বলেও দাবি তাঁদের।
হাফেজ ইসহাক আল মামুন বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মানুষের কল্যাণে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে চান বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে দ্বীনি শিক্ষা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয়তার কথা উঠে এসেছে। শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন হাফেজ ইসহাক আল মামুন।
দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া তাঁর পথচলা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে। বর্তমানে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনপরিসরে নিজের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখছেন তিনি।
