
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ বছরে ২৫০টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে সংগঠনটি জেলায় বেওয়ারিশ লাশের শেষ ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে এক অজ্ঞাত যুবকের দাফনের মাধ্যমে ২৫০তম বেওয়ারিশ লাশ দাফন সম্পন্ন করে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই যুবককে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।
দীর্ঘ সময়েও স্বজনদের সন্ধান না মেলায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংগঠনটির উদ্যোগে ইসলামী বিধান অনুযায়ী গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। মরদেহটি শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদীর পাড়ে অবস্থিত বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
২০২০ সালের করোনাকালে ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিনের উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পাশাপাশি সংগঠনটি বিনামূল্যে রক্তদান, অক্সিজেন সেবা এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।
নিঃস্বার্থ এই মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ ইতোমধ্যেই জেলায় মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।