ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যমুনা হাসপাতালে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগ অস্বীকার করে মুখ খুললেন জুলফিকার আলী
নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ে অবস্থিত যমুনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে অপসারণ ও অনাস্থা প্রদানের উদ্যোগকে বেআইনি, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জুলফিকার আলী।আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুলফিকার আলী বলেন, “গত এপ্রিল মাসে আমার বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজসহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকে আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে যমুনা হাসপাতালের পূর্ববর্তী পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করে তিন সদস্যের একটি নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে জুলফিকার আলীকে চেয়ারম্যান এবং কাউসার মিয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।জুলফিকার আলীর দাবি, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তিনি বলেন, “আমার চেয়ার দখল করা হয়েছে, আমাকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আমার রোগীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে হামলা-মামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখলাম, চলমান ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হাসপাতালের মালিকপক্ষের একটি অংশ আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদানের কথা বলছে। এমনকি আমাকে অব্যাহতি দিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও প্রচার করা হচ্ছে।জুলফিকার আলীর ভাষ্য, হাসপাতালের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের রোষানলে পড়েছেন।
তাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতি (ড্যাব)-এর সভাপতি ডা. মকবুল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যমুনা হাসপাতালের মালিকপক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এসব সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে জেলা পরিষদের প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে তিন সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয় এবং চেয়ারম্যান হিসেবে জুলফিকার আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।”তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যমুনা হাসপাতালের মালিকপক্ষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
ড্যাব জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আকতার হোসাইন বলেন, পূর্ববর্তী বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুলফিকার আলীকে চেয়ারম্যান এবং কাউসার মিয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে মালিকপক্ষের অধিকাংশ সদস্য একমত হয়েছেন যে জুলফিকার আলীকে আর চেয়ারম্যান পদে রাখা হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।যমুনা হাসপাতালকে ঘিরে চলমান বিরোধের বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
ফলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবার পরিবেশ বজায় থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
