জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে সারাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে লংমার্চ করা হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাটোয়ারী বলেন, “যদি সরকার সত্যিকারের জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে, তাহলে সীমান্ত রক্ষা তাদের প্রধান দায়িত্ব। অন্যথায় জনগণ বুঝে নেবে তারা শুধু নামমাত্র জাতীয়তাবাদী।”
বিজিবির সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের ‘মাদক চোরাকারবারি’ হিসেবে উল্লেখ করা ভারতীয় বক্তব্যের প্রতিফলন। এ ধরনের অবস্থান থেকে বিজিবিকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বিজিবির কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে এবং সীমান্ত রক্ষায় বাহিনীটিকে নতুনভাবে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করা প্রয়োজন।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, দেশের মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও জড়িত। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা উচিত। দেশে এত ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল আসে কীভাবে—এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি থাকতে হবে।”
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কসবা সীমান্তে যাওয়ার পথে তাকে কয়েক দফা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। “আমি বাংলাদেশের মাটিতেই আছি, যেখানে প্রয়োজন সেখানে যাব,”—বলেন তিনি।
সফরে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার ও মোস্তাক আহমেদ শিশিরসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধ্বজনগর-পাথরিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে কলেজছাত্র মো. মুরসালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪২) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত মুরসালিনের বাবা হেবজু মিয়া দাবি করেন, তার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি ছেলে হত্যার বিচার ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। একই দাবি জানান নিহত নবীর হোসেনের মা জাহেরা খাতুনও।
