টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করেছে। এতে বন্যার আশঙ্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত সোমবার আকস্মিক ঢলে উপজেলার মোগড়া, মনিয়ন্দ, দক্ষিণ ও ধরখার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে সীমান্তঘেঁষা বহু বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে পানি ঢুকে পড়ে। এমনকি আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও কাস্টমস হাউস এলাকায়ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
তবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসা এবং উজানের পানির প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় দ্রুত পানি নামতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরে গিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও নির্বিঘ্নে চলছে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও কাস্টমস হাউসের কার্যক্রমও পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে ফিরেছে। পানি প্রবেশ করা এলাকাগুলোর বাসিন্দারা এখন ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, “পাহাড়ি ঢলের পানি অধিকাংশ এলাকা থেকে নেমে গেছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। কোথাও নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুব দ্রুতই পুরো উপজেলায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
