মোছাব্বির হাসান সজীব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. ফারুক মিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে ওয়ার্ডবাসীর কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব বা ক্ষমতা না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে সবসময় নাগরিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
পোস্টে ফারুক মিয়া উল্লেখ করেন, ৯নং ওয়ার্ডের জনগণ সকল প্রতিকূলতা ও চাপ উপেক্ষা করে তাকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে পৌরসভার সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাকে অন্যায়ভাবে বিরত রাখা হয়। ফলে তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও জনগণের প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আশা করেছিলেন পুনরায় ওয়ার্ডবাসীর সেবায় সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু পরবর্তীতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সিদ্ধান্তে পৌর পরিষদ ভেঙে দেওয়ায় সেই সুযোগও হারিয়ে ফেলেন। এতে তিনি আবারও জনগণের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে পোস্টে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
বর্তমান বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নানা দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে ফারুক মিয়া বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও লজ্জিত। যদিও এ বিষয়ে তার বর্তমানে কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, তবুও ওয়ার্ডবাসীর যেকোনো সমস্যায় ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ মাহবুব শ্যামলের জন্যও সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
ফারুক মিয়ার এই আবেগঘন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মন্তব্যে তার বক্তব্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
