ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তিনি নৌকাযোগে তিতাস নদীর শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা শ্মশান ঘাট পর্যন্ত অংশ পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আশুগঞ্জ-ভৈরব বন্দর কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি।জেলা প্রশাসক জানান, তিতাস নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে অবৈধ দখলদার ও স্থাপনার তালিকা প্রস্তুত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি তিতাস নদী খনন প্রকল্পও হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, নদীর প্লাবনভূমি ও বিলে অবৈধ ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমনা সড়কের পাশে যেসব স্থানে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, সেগুলো জব্দ করে নিলামের মাধ্যমে কৃষিজমি ও প্লাবনভূমিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই সচেতন হয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে তিতাস নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নদীর তীরে নান্দনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শহরবাসীকে একটি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ উপহার দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
